Thursday June 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ১২:২০ PM

'ভূমিসেবা মেলা ২০২৬' ও 'ভূমি সেবা সপ্তাহ ২০২৬' উদযাপিত

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ২৩-০৫-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০১-০১-২০৩০

ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমি মেলা ২০২৬: স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত
সারাদেশে ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সফলভাবে উদযাপিত হয়েছে 'ভূমিসেবা মেলা ২০২৬' ও 'ভূমি সেবা সপ্তাহ ২০২৬'। "জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলায় নাগরিকরা তাৎক্ষণিক ও ঝামেলাহীন আধুনিক ডিজিটাল ভূমি সেবা উপভোগ করেছেন।
গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনা। ২০২৬ সালের এই ভূমি সেবা সপ্তাহ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন শতভাগ ক্যাশলেস ও পেপারলেস ভূমি সেবা নিশ্চিতকরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।"
ডিজিটাল সেবার জয়জয়কার
তিন দিনব্যাপী এই মেলায় কেন্দ্রীয় পর্যায় ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার ন্যায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বিশেষ সেবা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। এবারের মেলায় মূল আকর্ষণ ছিল শতভাগ অনলাইনভিত্তিক নাগরিক সেবা। মেলা প্রাঙ্গণে আসা সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পর ছাড়াই সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা বুঝে নেন।
মেলার প্রধান অর্জন ও সেবাসমূহ:
  • ই-নামজারি (e-Mutation): আবেদন জমা দেওয়ার পর রেকর্ড সময়ে নামজারি সম্পন্ন ও খতিয়ান প্রস্তুত।

  • স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন কর (Land Tax): নাগরিকরা মেলা প্রাঙ্গণের বুথ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বকেয়া ভূমি কর অনলাইনে পরিশোধ করেন।

  • স্মার্ট খতিয়ান ও ম্যাপ: আবেদন করার সাথে সাথেই কিউআর (QR) কোডযুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের সার্টিফাইড কপি বিতরণ করা হয়।

  • ডিজিটাল তথ্য সহায়তা: বয়স্ক ও প্রযুক্তি-অদক্ষ নাগরিকদের জন্য 'হেল্প ডেস্ক' এর মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম পূরণ ও আবেদন সাবমিট করে দেওয়া হয়।

উপভোগী নাগরিকদের স্বস্তি
ভূমি সেবা সপ্তাহে সেবা নিতে আসা ঢাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, "আগে ভূমি অফিসে যাওয়া মানেই ছিল দিনের পর দিন অপেক্ষা আর হয়রানি। কিন্তু এবার মেলায় এসে মাত্র কয়েক মিনিটে আমি আমার জমির খাজনা অনলাইনে পরিশোধ করেছি এবং কিউআর কোডযুক্ত দাখিলা হাতে পেয়েছি। এটা সত্যি অবিশ্বাস্য।"
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের মেলায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেবা নিয়েছেন। ই-নামজারি এবং অনলাইন কর আদায়ের পরিমাণ বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রাজস্ব আদায়েও বড় ভূমিকা রাখছে।

ভূমি সেবা সপ্তাহ ও মেলা ২০২৬-এর এই ব্যাপক সাফল্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশের ভূমি খাত থেকে দুর্নীতি ও হয়রানি দূর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। সরকারের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা আরও সহজ ও সুরক্ষিত উপায়ে পৌঁছে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন